শিরোনাম:
ঢাকা, রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
Songjog24
বুধবার ● ২২ জুলাই ২০২০
প্রচ্ছদ » আওয়ামী লীগ » বরগুনার মানুষের সুখে দু:খে পাশে থাকতে চাই
প্রচ্ছদ » আওয়ামী লীগ » বরগুনার মানুষের সুখে দু:খে পাশে থাকতে চাই
১১০২ বার পঠিত
বুধবার ● ২২ জুলাই ২০২০
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

বরগুনার মানুষের সুখে দু:খে পাশে থাকতে চাই

ইসতিয়াক আজাদ (মিরাজ)

দেশের সর্বদক্ষিণের অবহেলীত উপকূলীয় জেলা বরগুনার মানুষের সুখে দু:খে পাশে থাকতে চাই। আমার বাবা-মায়ের দেশ প্রেম ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আমাকে অনুপ্রানিত করেছিলো। বরগুনার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ও বরগুনাকে একটি পর্যটন জেলা হিসেবে বিশ^ দরবারে পরিচিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। দলের দুর্দিনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে রাজপথে বরগুনা আওয়ামী লীগের সাহসীযোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছি ছাত্রাবস্থায়। ভোগ করেছি সেনা নির্যাতন, যেতে হয়েছে কারাগারে। সংযোগ টোয়েন্টিফোরের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় এমনটাই বললেন সাবেক ছাত্রনেতা ও উন্নয়ন কর্মী ইসতিয়াক আজাদ(মিরাজ)। জন্মদিনে একান্ত আলাপচারিতায় উঠে এসেছে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের নানা ঘটনা প্রবাহ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুমন সিকদার।

ইসতিয়াক আজাদ(মিরাজ) ১৯৭৬ সালের ২২ জুলাই বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর গ্রামের প্রগতিশীল রাজনৈতিক পরিবারের জন্মগ্রহন করেন। চার ভাই বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। বাবা প্রয়াত অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ(বাদশা) ছিলেন, বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক  ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি। এছাড়াও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও আইনজীবী হিসেবে ছিলেন সকলের প্রিয়। বরগুনা জেলা আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ও বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির পাঁচবার নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন তিনি। ছিলেন বাংলাদেশ আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের যুগ্ন সম্পাদকও। মা মিসেস নিগাত সুলতানা। একজন সমাজসেবক। বর্তমানে বরগুনা জেলা আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক, বরগুনা জেলা সম্মীলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি, বরগুনা জেলা মহিলা পরিষদের সহ-সভাপতি, খেলাঘর আসর বরগুনা জেলার সহ-সভাপতি, জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য, বরগুনা জেলা কারা পরিদর্শক, সরকারি শিশু পরিবার বরগুনা জেলা এর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বরগুনা জেলা মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সদস্য হিসেবে আসীন রয়েছেন। এছাড়াও তিনি নারী অধিকার আন্দোলনে একজন একনিষ্ঠ কর্মী, যার অবদান স্বীকৃতি সরূপ জয়িতা পদকে ভূষিত হয়েছেন।

এমন রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা  ইসতিয়াক আজাদ (মিরাজ) এর রক্তে মিশে যায় রাজনীতি, আর বুকে ধারণ করেন মুজিব আদর্শ তাইতো, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে গিয়ে পিতাঃ প্রয়াত এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ (বাদশা) ও মাতাঃ মিসেস নিগাত সুলতানা রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছেন, সহ্য করতে হয়েছে নানান অত্যাচার এবং লুণ্ঠিত হয়েছে তাদের ঘর-বাড়িসহ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন আর্থিকভাবে, তবুও ভালোবেসে হাসিমুখে কাজ করেছেন দলের দুর্দিনে, দলের প্রতি এমন ভালোবাসা কিশোর ইসতিয়াক আজাদের মনকে আন্দোলিত করে যার ফলশ্রুতিতে ভালোবাসা তৈরী হয় আওয়ামীলীগের প্রতি ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি।

রাজনীতিতে প্রবেশের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসতিয়াক আজাদ (মিরাজ) বলেন, ১৯৯১ সালে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্রলীগের প্রবেশের মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতে খড়ি। ১৯৯৪  সালে এস.এস.সি পরীক্ষায় বরগুনা জিলা স্কুল থেকে মানবিক শাখায় স্টার মার্কসহ প্রথম শ্রেনিতে উন্নীত হয়ে বরিশাল বি.এম কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ছাত্র রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হই।

ইসতিয়াক আজাদ মিরাজ ১৯৯৫ সালে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের মানবিক শাখার সভাপতি ও ঘাতক নির্মুল কমিটির সক্রিয় কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে কলেজ শাখার পক্ষে স্বৈরাচার খালেদা বিরোধী  আন্দোলনে প্রত্যক্ষভাবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯৬ সালে এই.এইস.সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বরগুনা সরকারি কলেজে ডিগ্রীতে ভর্তি হন তিনি। পরবর্তীতে উক্ত কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভিপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশি হলেও সমগ্র বাংলাদেশে ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্থগিত থাকার কারনে ভিপি হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে রুপ লাভ করেনি।

পরবর্তীতে তিনি বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা জেলায় আওয়ামীলীগের বিজয় নিশ্চিত করনের লক্ষ্যে বিশ্বস্ততার সাথে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনসহ শিবির হটাও আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন, যার ফলশ্রæতিতে ২০০১ সালে ক্ষমতাসীন জামায়াত জোট সরকারের অপারেশন ক্লিন হার্টের সময় বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের একমাত্র কর্মী, যিনি আর্মির হাতে গ্রেফতার হয়ে সেনা নির্যাতনের শিকার হন ও দীর্ঘদিন কারভোগ করেন। ২০০২ সালে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সর্বজনগ্রাহ্য প্রার্থী হয়েও অনিবার্য কারণঃবশত ২০০২ সালে উক্ত কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়নি।

দীর্ঘদিন সেনা নির্যাতন, কারাভোগ, রাজনৈতিক হয়রানি এবং ব্যক্তিগত আর্থিক সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে, ২০০৩ সালে উন্নয়ন কর্মী হিসেবে, রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আরডিএফ) সংস্থায় যোগদান করেন। বর্তমানে উক্ত সংস্থার উপ-পরিচালক ও সংস্থার অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদে কর্মরত আছেন তিনি। যেহেতু রক্তে তার মিশে আছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, তাই বর্তমান অবস্থান থেকেই জননেত্রী শেখ হাসিনার এস.ডি.জি-২০৩০ বাস্তবায়নের নিমিত্তে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

রাজনীতি ছেড়ে উন্নয়ন সংগঠনে কাজ করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতির মাঠে যেমন বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে কাজ করেছি এখানে ঠিক তেমনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছি।

ইসতিয়াক আজাদ রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকলেও বর্তমান আওয়ামীলীগের নীতি নির্ধারক এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের  সাথে রয়েছে তার সুসম্পর্ক। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা জেলা আওয়ামী রাজনীতিতে দলীয় কোন্দল সৃষ্টি হয়ে একই আসন থেকে সর্বমোট ৫৪ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী মনোনয়ন র্ফম দাখিল করেন। এমন সংকট কালীন মুহূর্ত্বে সঠিক প্রার্থী মনোনয়নের লক্ষ্যে, একটি শক্তিশালী টিমের সদস্য হিসেবে, আওয়ামীলীগের বাছাই কমিটির নীতি নির্ধারকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে দলীয় যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন পেতে তৎপর ছিলেন এবং উক্ত নির্বাচনে পরিচালনা কমিটির দায়িত্বশীল পদে নিয়োজিত থেকে, দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করনের নিমিত্তে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন এবং সকল যড়যন্ত্র মোকাবেলা করে সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় নৌকা বিজয়ী হয়।

বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক উদীয়মান রাজনৈতিক নেতা রয়েছেন, যারা দলের হাল ধরা এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে মাঠে কাজ করছেন। কিন্তু, দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ খ্যাত বরগুনা জেলার ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী রাজনীতির সকল শিষ্টাচার ও সংস্কৃতির বাহিরে ব্যক্তি কেন্দ্রিক রাজনীতিকে তারা বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন এবং তৃণমূল কর্মীদের সুখ-দুঃখের সাথী হতে পারেন নি তারা। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বরগুনা জেলায় আওয়ামী রাজনীতি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন, দলকে বাঁচাতে এবং দলীয় কর্মীদের সাথে থাকতে হলে চেম্বার ভিত্তিক কর্পোরেট রাজনীতির বাহিরে গিয়ে গঠনতন্ত্রের চর্চা ও দলীয় কার্যালয় ভিত্তিক কর্মী বান্ধব রাজনীতির চর্চা করতে হবে ঐসকল নেতৃবৃন্ধকে।

গত সংসদ নির্বাচন থেকে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগে একটি বিভক্তি তৈরি হয়েছে যা বরগুনার উন্নয়নকে বাঁধাগ্রস্ত করছে সেক্ষেত্রে আপনি কি মনে করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসতিয়াক আজাদ মিরাজ বলেন, বর্তমান বরগুনা জেলা আওয়ামীলগের সভাপতি অ্যাড. ধীরেন্দ্র দেবণাথ শম্ভু এবং সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির এর উপর আমি পুরোপুরি আস্থাশীল, কারণ তারা দুইজনই অত্যন্ত কর্মী বান্ধব। বিগত দিনগুলোতেও এই দ্ইু নেতার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে সকল আন্দোলন, সংগ্রাম এবং দলের দুর্দিনে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ ছিলো। এই দজুনেই সুদীর্ঘ সময় ধরে  আওয়ামী কান্ডারী হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কর্মীদের সকল সুখ-দুঃখ তারাই পাশে ছিলেন। আগামী দিনেও সেই ধারাবাহিকতা অব্যহত থাকবে সেটা বিশ্বাস করি। এই দুই নেতার মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকলে পর্যটন খ্যাত বরগুনা জেলার ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব।

একসময়ের দাপুটে ছাত্রনেতার হঠাৎ রাজনীতি থেকে প্রস্থান মেনে নিতে পারেনি সেই সময়ের সমসাময়িক অনেক ছাত্রনেতা ও কর্মীরা। এখনো তারা প্রতীক্ষায় আছে তারা রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান ইসতিয়াক আজাদ(মিরাজ) আবারো রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হবে। প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হবেন কি না? এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি রাজনীতি ছেড়ে যাইনি। নিজের অবস্থান থেকে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। প্রত্যক্ষভাবে মাঠে নামা সেটা শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগসহ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে সকল শক্তির সাথে সবসময় আছি। নিজের সাধ্য অনুযায়ী সকল ধরনের সহযোগিতা করবো যে কোন প্রয়োজনে। বরগুনার মানুষের পাশে আছি। সুখে দু:খে তাদের পাশে থাকতে চাই।

বর্তমানে তিনি বরগুনা জেলার উন্নয়নে সকল সমাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। ইতোমধ্যেই জেলার অনেক বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন এবং করে যাচ্ছেন। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ের বহুল আলোচিত মহামারী কভিড-১৯ মোকাবেলায় বরগুনা জেলার বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী দলের সমন্বয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বাধ্যমত আর্থিক সহায়তাসহ সকল কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থেকেছেন তিনি। বরগুনাকে একটি পর্যটন জেলা হিসেবে সুসজ্জিত করার লক্ষ্যে ব্যক্তিগত বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি এবং উক্ত  উদ্যোগ সমূহ সফলভাবে বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

সাক্ষাৎকার গ্রহন ও গ্রন্থনা: সুমন সিকদার

 



আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)