শিরোনাম:
ঢাকা, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ৪ আষাঢ় ১৪২৮
Songjog24
মঙ্গলবার ● ২৮ এপ্রিল ২০২০
প্রচ্ছদ » ক্যাম্পাস » হুমায়ুন আজাদ ও প্রতিক্রিয়াশীলতা || খাদিমুল বাশার জয়
প্রচ্ছদ » ক্যাম্পাস » হুমায়ুন আজাদ ও প্রতিক্রিয়াশীলতা || খাদিমুল বাশার জয়
৪১৮ বার পঠিত
মঙ্গলবার ● ২৮ এপ্রিল ২০২০
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

হুমায়ুন আজাদ ও প্রতিক্রিয়াশীলতা || খাদিমুল বাশার জয়

---

তৃতীয় বিশ্বে জন্ম নিয়ে শুধু কবিতা লিখলে চলে না, দানবের বিরুদ্ধেও লড়াই করতে হয় নিরন্তর। লড়াই চলে ভাষার মধ্য দিয়েও। এরফলে বাংলাদেশে দেখা দেয় এক নতুন আঙ্গিক, যাকে বলা হয় ‘কলাম’। আশির দশকের শেষের দিকে, বিভিন্ন সাপ্তাহিকের কলামগুলো সামরিক একনায়কত্বের সাথে প্রচণ্ড লড়াই করেছে। অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ স্বতঃস্ফুর্তভাবে ও বাধ্য হয়ে লিখেছেন প্রচুর কলাম। লড়াই করেছেন সেসময়ের সব স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে। যা কিছু মানুষের মুক্তির বিপক্ষে, তার বিরুদ্ধেই লড়াই করেছেন।

চেষ্টা করেছেন লেখাগুলোকে সাংবাদিকতা থেকে দূরে রাখতে, প্রতিটি কলামকে প্রবন্ধে পরিনত করতে, যাতে এগুলোর রাজনীতি মূল্যহীন হয়ে গেলেও থাকে ভেতরের সাহিত্যটুকু। একগুচ্ছ প্রবন্ধ লিখেছেন যেগুলোর প্রধান বিষয় আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রজোড়া প্রগতিশীলতা। এগুলোর আবেদন আজো নি:শেষ হয়নি, হয়তো এ শতকে হবেও না।

‘যুগান্তের বা শতকান্তের ক্লান্তি’ বলে একটি কথা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলো একসময়, যা দেখা দিয়েছিলো উনিশ শতকের শেষ দিকে ইউরোপে। আমাদের এখানে তেমন কোন ক্লান্তির বদলে হয়তো  দেখা দিয়েছিলো শতকান্তের অন্ধকার বা ব্যাধি। যার লক্ষণ আজো বিদ্যমান। বাঙালি মুসলমান কিছুকাল বাঙালি থাকার পর আবার হয়ে উঠেছে মধ্যযুগীয়; প্রতিক্রিয়াশীলতা হয়ে উঠছে তার জীবনধারণের পদ্ধতি।

পৃথিবীর গভীর অসুখে আক্রান্ত হওয়ার পরেও বেশকিছু ঘটনা ঘটেছে যা প্রতিক্রিয়াশীলতারই নামান্তর।

“শিশুও সাপ চেনে বাঙালিরও চেনার কথা জামাতকে; কিন্তু বাঙালি মনে হয় শিশুর চেয়েও নির্বোধ। গোখরোর কামড় খেয়েও বাঙালি চেনে না সাপ কাকে বলে। বাঙলাদেশ ও তার বিভ্রান্ত রাজনীতি দুধকলা দিয়ে পুষে আসছে কালোজাতিকে যার ছোবলে একদিন সম্পূর্ণ নীল হয়ে যেতে হবে বাঙালি জাতিটিকে।”

অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ লিখেছেন ধর্মান্ধতার নামে প্রতিক্রিয়াশীলতার, অতীতমুখিতা, মৌলবাদ, প্রগতিবিমুখতা, সাম্প্রদায়িকতা, অগণতান্ত্রিকতা, সামরিক একনায়কত্ব সহ যা কছু প্রগতির পথে অন্তরায় সমস্ত কিছুর বিরুদ্ধে। তিনি বিশ্বাস করতেন জাতি ও জীবন হবে ভবিষ্যৎমুখি।

তৃতীয় বিশ্বে জন্ম নিয়ে শুধু কবিতা লিখলে চলে না, দানবের বিরুদ্ধেও লড়াই করতে হয় নিরন্তর। লড়াই চলে ভাষার মধ্য দিয়েও। এরফলে বাংলাদেশে দেখা দেয় এক নতুন আঙ্গিক, যাকে বলা হয় ‘কলাম’। আশির দশকের শেষের দিকে, বিভিন্ন সাপ্তাহিকের কলামগুলো সামরিক একনায়কত্বের সাথে প্রচণ্ড লড়াই করেছে। অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ স্বতঃস্ফুর্তভাবে ও বাধ্য হয়ে লিখেছেন প্রচুর কলাম। লড়াই করেছেন সেসময়ের সব স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে। যা কিছু মানুষের মুক্তির বিপক্ষে, তার বিরুদ্ধেই লড়াই করেছেন।

চেষ্টা করেছেন লেখাগুলোকে সাংবাদিকতা থেকে দূরে রাখতে, প্রতিটি কলামকে প্রবন্ধে পরিনত করতে, যাতে এগুলোর রাজনীতি মূল্যহীন হয়ে গেলেও থাকে ভেতরের সাহিত্যটুকু। একগুচ্ছ প্রবন্ধ লিখেছেন যেগুলোর প্রধান বিষয় আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রজোড়া প্রগতিশীলতা। এগুলোর আবেদন আজো নি:শেষ হয়নি, হয়তো এ শতকে হবেও না।

‘যুগান্তের বা শতকান্তের ক্লান্তি’ বলে একটি কথা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলো একসময়, যা দেখা দিয়েছিলো উনিশ শতকের শেষ দিকে ইউরোপে। আমাদের এখানে তেমন কোন ক্লান্তির বদলে হয়তো  দেখা দিয়েছিলো শতকান্তের অন্ধকার বা ব্যাধি। যার লক্ষণ আজো বিদ্যমান। বাঙালি মুসলমান কিছুকাল বাঙালি থাকার পর আবার হয়ে উঠেছে মধ্যযুগীয়; প্রতিক্রিয়াশীলতা হয়ে উঠছে তার জীবনধারণের পদ্ধতি।

পৃথিবীর গভীর অসুখে আক্রান্ত হওয়ার পরেও বেশকিছু ঘটনা ঘটেছে যা প্রতিক্রিয়াশীলতারই নামান্তর।

“শিশুও সাপ চেনে বাঙালিরও চেনার কথা জামাতকে; কিন্তু বাঙালি মনে হয় শিশুর চেয়েও নির্বোধ। গোখরোর কামড় খেয়েও বাঙালি চেনে না সাপ কাকে বলে। বাঙলাদেশ ও তার বিভ্রান্ত রাজনীতি দুধকলা দিয়ে পুষে আসছে কালোজাতিকে যার ছোবলে একদিন সম্পূর্ণ নীল হয়ে যেতে হবে বাঙালি জাতিটিকে।”

অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ লিখেছেন ধর্মান্ধতার নামে প্রতিক্রিয়াশীলতার, অতীতমুখিতা, মৌলবাদ, প্রগতিবিমুখতা, সাম্প্রদায়িকতা, অগণতান্ত্রিকতা, সামরিক একনায়কত্ব সহ যা কছু প্রগতির পথে অন্তরায় সমস্ত কিছুর বিরুদ্ধে। তিনি বিশ্বাস করতেন জাতি ও জীবন হবে ভবিষ্যৎমুখি।

জীবনানন্দের ভাষায় পৃথিবী আজ গভীরতম অসুখে আক্রান্ত। এই গভীরতম অসুখের পরবর্তীতে রয়েছে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ। সমগ্র পৃথিবী জুড়ে বয়ে যাওয়া ঝড় পরবর্তী সময়ের সংকট মোকাবিলায় সকলের মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশকেও এই অসুখ পরবর্তী সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। প্রতিক্রিয়াশীলতাকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে হবে প্রগতির পথে। প্রতিক্রিয়াশীলতা কখনো জীবনধারণের পদ্ধতি হতে পারে না। কর্মে, মননে, চিন্তায় অগ্রসর হতে হবে আমাদের। আত্মতুষ্টিতে না ভুগে আত্মসমালোচনা নিয়ে এগুতে হবে মানবিকতার পথে।

কবি, সমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী, প্রাবন্ধিক; বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রথাবিরোধী চিন্তাবিদ অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদের জন্মবার্ষিকীতে তাঁর তরে প্রণতি।

 

লেখক: - এম.ফিল গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।



আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)