শিরোনাম:
ঢাকা, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ৪ আষাঢ় ১৪২৮
Songjog24
বুধবার ● ৪ মার্চ ২০২০
প্রচ্ছদ » বরগুনা » ‘হালাই পট্টি’ বরগুনার কালের সাক্ষী
প্রচ্ছদ » বরগুনা » ‘হালাই পট্টি’ বরগুনার কালের সাক্ষী
৬৫২ বার পঠিত
বুধবার ● ৪ মার্চ ২০২০
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

‘হালাই পট্টি’ বরগুনার কালের সাক্ষী

সিটিজেন জার্নালিজম, সংযোগ টোয়েন্টিফোর :

---বরগুনার হালাই পট্টির নাম পরিবর্তন করে কালেক্টরেট মিষ্টি পট্টি বা কালেক্টরেট মিষ্টি মার্কেট নাম বরগুনার আদি ঐতিহ্য বিলুপ্ত করতে পারে বলে বলছেন বরগুনার স্থানীরা। বরগুনার উন্নয়নে জেলার ঐতিহ্যবাহী কোন নাম পরিবর্তন না করে উন্নয়নের দাবি স্থানীয়দের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হালাই পট্টি নিয়ে অনেকেই ইতোমধ্যে অনেক লেখালেখি করে তাদের আবেগ ঐতিহ্য তুলে ধরেন। আসাদ জামানের ফেসবুক থেকে তেমনি একটি পোস্ট নিচে তুলে ধরা হলো।

হালুইকর থেকে হালাইপট্টি, আমাদের ঐতিহ্য আমাদের কালের সাক্ষী

হালুইকর হচ্ছে হালুয়া বা মিষ্টান্ন প্রস্তুকারক। হালুইকরদের পট্টি, ভাষার বিবর্তন ও সংক্ষিপ্ত রুপে হালাই পট্টি বা উচ্চারণ ভেদে আলাই পট্টি হিসেবে বরগুনা শহরে পরিচিতি লাভ করেছে।

বরগুনা শহরের ছেলে থেকে বুড়ো সবাই যুগ যুগ থেকে এই হালুইকরদের তৈরী অসাধারণ মিষ্টান্ন ও সাথে সকালের নাস্তায় অভ্যস্ত। এ গল্প কয়েক প্রজন্মের। ঐতিহ্যবাহী এ জায়গাটি শহরের প্রাণকেন্দ্রে হওয়ায় দূর দূরন্তের মানুষও এই মিষ্টান্নের স্বাদ নিতে ভুল করেন না।

একটি জেলা শহরে এমন মিষ্টান্ন পাড়া সচরাচর দেখা যায় না। তবে একথা অনস্বীকার্য যে বহুবছর ধরে এই হালাইপট্টির দোকানগুলোর সংস্কার হচ্ছে না। জেলা কালেক্টরেট এর এই মহোতি উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবীদার। পুরোনো কে সরিয়ে নতুন স্বাস্থ্যসম্মত খাবারস্থান সকলেরই কাম্য।

পুরোনো জীর্ণতা দূর হয়ে নতুনে অবগাহণ করাটা একান্ত কাম্য কিন্তু তাই বলে যদি জায়গার অস্তিত্ব কিংবা নামসংকট হয় সেটা কতোটা যৌক্তিক। আপনি লুঙ্গি ছেড়ে জিন্স ধরতেই পারেন তাই বলে নাম আক্কাস থেকে নিশ্চই আকাশ রাখবেন না। তাহলে তো আপনি আক্কাসকেই মেরে ফেললেন। জিন্স তো আকাশ পড়লো আব্বাস না। তাই পরিবর্তনের ধারায় ইতিহ্য কিংবা অতীত ভুলে গেলে সেটা সুখকর হবে কিনা ভাবার বিষয়।

তবে সংযোজন হতেই পারে তবে বিয়োজনটা পুরো ইতিহাস মুছে দিবে। আমাদের বয়েজ্যেষ্ঠরা এখনও বলেন একসময় একটাকা দিয়া দুইটা পরোটা আর এক কাপ চা খাইতাম এই হালাই পট্টিতে। তাহলে আমাদের স্মৃতিচারণ করতে হবে একসময় এখানের নাম হালাইপট্টি ছিলো। আমরা নাস্তা করতাম। ছিলো আর বর্তমানে বিস্তর ফারাক।

আর যদি আধুনিক নাম বিচার করেন তাতেও হালুইকরদের অরিজিন থেকে হালাইপট্টি যথেষ্ট শিল্পগুন সম্পন্ন বলেই মনে করি। হ্যা তবে কর্তৃপক্ষের নাম সংযোজন করা যেতেই পারে। আমার বাব দাদা আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতেন। পূর্বপুরুষের ভাষাই আমার পরিচয় যে ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে আমার আপনার ভাই। তাই আঞ্চলিকতা কখনোই ভাষার শিল্পগুন নষ্ট করতে পারে না। আঞ্চলিকতাই আমাদের সত্যিকারের পরিচয়।

[ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্নের আভিজাত্যে “হালাই পট্টি” ( হালুইকর শব্দ থেকেই বিবর্তনের ধারায় হালাই পট্টি, শব্দটিতে লেগে আছে কয়েক প্রজন্মে মিষ্টিমমুখের মুখরিত গল্প।) ছোটকরে না হয় এমন লেখা যেতেই পারে।

আধুনিয়াকায়নে : বরগুনা কালেক্টরেট অফিস (কর্তৃপক্ষের নাম) তারিখ]

উপরে উল্লেখিত নাম বা পদ্ধতি একটি উদাহরণমাত্র।



আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)