শিরোনাম:
ঢাকা, সোমবার, ১৭ মে ২০২১, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
Songjog24
শনিবার ● ১৬ জানুয়ারী ২০২১
প্রচ্ছদ » মুক্তমত » বীর মুক্তিযোদ্ধার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন
প্রচ্ছদ » মুক্তমত » বীর মুক্তিযোদ্ধার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন
১৩৪২ বার পঠিত
শনিবার ● ১৬ জানুয়ারী ২০২১
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

বীর মুক্তিযোদ্ধার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন

সাথিক রুবেল :

---জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য থেকে সভাপতি, আইনজীবী থেকে আইন প্রণেতা, প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠা থেকে বরগুনার উন্নয়নের প্রতিটি স্থাপনায় যার নামাঙ্কিত।

বলছিলাম বরগুনা জেলা আওয়ামিলীগের সভাপতি ও বরগুনা -০১ আসন থেকে বারবার নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু’র কথা।

১৯৭০ সালের দিকে জয়বাংলা শ্লোগানের ধ্বনি প্রতিধ্বনির মাধ্যমে ছাত্রলীগের নেতৃত্বদানকারী এক টগবগে যুবকই আজ ৫ বারের সাংসদ ও শান্তি প্রিয় বরগুনার প্রতিনিধিত্ব করছেন যুগযুগ ধরে।

এই সেই যুবক যিনি ছাত্রলীগ করে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার অপরাধে তার মাথার ওজনের বিনিময় স্বর্ন ঘোষণা করেছিল

মেজর নাদের পারভেজ এবং তার পিতা ধৈর্যধর দেবনাথকে নির্মম নির্যাতন শেষে হত্যা করেছিল।

এই সেই যুবক যিনি পটুয়াখালী কলেজ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আর বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে।

১৯৭২ সালে যুদ্ধ বিধ্বস্ত বরগুনা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে গঠিত হয়েছিলো কৃষক লীগ। যে কমিটিতে ছিলেন আসমত আলী শিকদার , নিজাম উদ্দিন তালুকদার এমপি, জালাল উদ্দিন মোল্লা , সিদ্দিক এমপির মত ব্যক্তিদের সাথে কনিষ্ঠ সদস্য হওয়ার মত গৌরবময় অধ্যায়ের স্বাক্ষী তিনি।

কৃষকের উৎপাদিত শস্যের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তী নিশ্চিত করতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলো এই কমিটি ।

এই সেই যুবক যিনি ১৯৭৮ সালে বরগুনা জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি নিজ হাতে করেন এবং সামান্য সদস্য পদ নিয়ে নিষ্ঠার সাথে দলের সকল কার্যক্রম করেছেন।

এরপর প্রচার সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক আর সভাপতি হিসেবে বেশ দাপটের সাথে জেলার নেতৃত্ব দিতে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি প্রগতিশীল এই নেতার।

মন্ত্রীপরিষদের অত্যন্ত প্রভাবশালী সদস্য ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও একাধিক বার দায়িত্ব পালন করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন দেশজুড়ে।

এই সেই যুবক যার জ্ঞানের আলোয় প্রদীপ শিখার ন্যায় আলোকিত করেছে শুধু বরগুনা নয় সমগ্র বাংলাদেশ। তার জ্বালাময়ী বক্তৃতায় মহান সংসদে বলেছিলেন, “বাংলাদেশে সরকারে থাকবে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি তেমনি বিরোধী দলেও থাকবে মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী ও স্বপক্ষের শক্তি।এক মাত্র নেতা যার দুরদর্শী পরিকল্পনায় আজ বাংলাদেশে ইস্ট -ওয়েস্ট ও উপকূলীয় মহাসড়ক নির্মিত হচ্ছে যাচ্ছে।”

যার দুরদর্শীতা ও বিচক্ষণতায় বরগুনার পায়রা ও বিষখালী ব্রীজ, পাওয়ার গ্রীড সাবষ্টেশন, তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বরগুনাকে হাব বা কেন্দ্র করে উপকূলের সাতটি উপজেলা নিয়ে ২ বিলিয়ন টাকা ব্যায়ে একটি এক্সক্লুসিভ ট্যুরিজম জোন গঠন করা হচ্ছে।

বরগুনা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে সাংবাদিক ও সুশীল সমাজে তার কদর একটু আলাদাই বলতে হয়!আইন ব্যবসা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও রাজনীতিকেই তিনি পেশা হিসেবে নিয়ে ছিলেন বরগুনার মানুষের সেবা ও ভালবাসার খাতিরে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা যেমন আছে তেমনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটে রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট প্রতিনিধির আজীবন সদস্যও হয়েছেন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই মেধাবী ছাত্রনেতা অ্যাড.ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু।

দীর্ঘ ছয়(৬) দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় যেমন হিমালয় সমান সম্মান অর্জন করেছেন রাজনৈতিক প্রজ্ঞাবান এই নেতা ঠিক তেমনি ব্যক্তিগত জীবনে কিছু ব্যর্থতাও রয়েছে।যে সব ব্যর্থতার মধ্যে চেরাগ আলী, হযরত আলী আর সবুরজানদের নিস্বার্থ ভালবাসার কাছে পরাজিত হয়ে আপনত্বের বন্দীশালায় বাস করছেন নিবিড় পরিচর্যায়।

বারবার ব্যর্থতার দায় স্বীকার করতে হয়েছে লাঠি ভর করে চলা পঙ্গু সিদ্দিক আর সহায় সম্বলহীন রওশোনারাদের পবিত্র ভালবাসার কাছে।

তিনি এমন নেতা যার ফোনে শুধু উচ্চপদস্থ নেতা বা কর্মকর্তাদের নয় বরং প্রত্যন্ত গাঁয়ের মালেক কিংবা সরবতীদের মোবাইল নাম নাম্বারটা পর্যন্ত সেভ করা আছে। কোন পি,এস ছাড়াই সবগুলো ইনকামিং ফোন কল তিনিই রিসিভতো করেনই এমন কি মিসড কলও ব্যাক করার মত ধৈর্য বিধাতা তাকে দিয়েছেন।

তাই বলতে হয় - শেকড় থেকে শিখড়ে, ভালবাসার পরম চাদরে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী আসনে থেকেও নিজেকে বিলিয়ে দেননি বিলাসিতার গহীন সাগরে!

অপু / ১:২৯ পিএম 



আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)