শিরোনাম:
ঢাকা, শনিবার, ৮ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮
Songjog24
বৃহস্পতিবার ● ১১ জুন ২০২০
প্রচ্ছদ » মুক্তমত » আসুন ভালো বলতে শিখি
প্রচ্ছদ » মুক্তমত » আসুন ভালো বলতে শিখি
৩৭৪ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ১১ জুন ২০২০
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

আসুন ভালো বলতে শিখি

আসাদ জামান :

ছবি : লেখক (আসাদ জামান)পাহাড় ডিঙানোর কথা শুনলেই একদল ভাববেন ও বাবা পাহাড়! আমার পক্ষে অসম্ভব। আর একদল ভাববেন পাহাড়, এমন কি এপাশ থেকে উঠে ওপাশ থেকে নেমে গেলেই হলো। ঠিক যেন পাঁচতলা বিল্ডিং এর ছাদে উঠলাম আর নামলাম।

এদের কোন দলই আপনাকে এ বিষয়ে কোন সাহায্য করতে পারবে না। এদের পরামর্শ কিংবা সমালোচনা যেটাই আপনি নিতে যান সেটাই আপনার জন্য হিতে বিপরীত হবে। আপনাকে শুনতে হবে তার পরামর্শ যে এক আধবার পাহাড় ডিঙিয়েছে। একমাত্র বাস্তব অভিজ্ঞতাই আপনাকে সঠিক পথ দেখাতে সাহায্য করবে। তাই অনভিজ্ঞ কিংবা বিশেষ অজ্ঞ কে এড়িয়ে চলাই স্রেয়।

পাহাড় একটি উদাহরণ মাত্র। জীবনের সকল ক্ষেত্রই এমন। ভালো কিংবা খারাপ আসলে কি! আপনার জন্য যেটা ভালো সেটা অন্য কারও জন্য খারাপ হতেই পারে। সমাজের তথাকথিত ভালো খারাপের সংজ্ঞা একটা মাপকাঠি মাত্র যা নির্ভর করে বাস্তব জীবন চলে না। তাই দুদিনের জীবনে আপনার চোখে যেটা ভালো মনে হয় সেটাই করা উচিত। তবে দিনশেষে নিজের কাছে জবাবদিহিতা থাকাটা জরুরী।

ভালো কে ভালো বলতে পারাটাও একটা শিল্প। কোন ভালো কাজকে উৎসাহ প্রদানও এক ধরনের ভালো কাজ। হয়তো কাজ করতে গেলে ভুল হতেই পারে মানুষের, সেক্ষেত্রে ভুল টুকু সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে তার ভালোটুকু মাটি চাপা দিয়ে আপনি কখনো এগিয়ে যেতে পারবেন না কারন আপনার ওই সাহস নেই বলেই আপনি খুত খুঁজে বেড়ান।

আমাদের তরুন প্রজন্ম বিশেষ করে বরগুনা জেলার এক একজন এক একটি সংগঠন হওয়ার ক্ষমতা রাখে। সঠিক দিক নির্দেশনায় তারা পাল্টে দিতে পারে সমাজের সকল অসংগতি। তারা কিছু চায় না শুধু হাসিমুখ আর ভালোবাসা চায়। পরিশ্রম, শারীরিক কষ্ট তাদের উদ্যোমের কাছে জবুথবু হয়ে পরে থাকে। তাই খারাপের উদাহরণ হওয়ার পর তাকে নিয়ে ছি ছি করতে ঝাপ দিয়েন না। চেহারা দেখেই বুঝে নিয়েন না সে গাঁজাখোর। সে বিষয়ে যদি আপনার পূর্ব অভিজ্ঞতাও থাকে তবুও অন্য কে নিয়ে মন্তব্য করার আগে জেনে নিন।

আমাদের সমাজ ও আমাদের নেগেটিভ মানসিকতাই আসলে যারা খারাপ পথে গিয়েছে তাদের বিপথের কারন।  আপনারা আমরা পারিনি তাদের মানবিকবোধ শেখাতে। পাশের বাসায় না খেয়ে থাকা পরিবারটিকে লুকিয়ে আপনি কোরমা পোলাও খাবেন আর আপনার সন্তান বড় হয়ে আপনাকে লুকিয়ে খেলে আপনি আফসোস করবেন। কেন? আপনি তাকে যা শিখিয়েছেন তাই সে শিখেছে। ছোটবেলায় অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ছেলেটিকে লাঠি পেটা করবেন আর আপনার মেয়েটিকে উত্যক্ত করার সময় পাশের বাসার ছেলেটি দেখেও এড়িয়ে গেলো শুনে তাকে মানুষ অমানুষে ব্যবচ্ছেদ করবেন। এটাই আমাদের চরিত্র।

তাই ভালো কে ভালো বলতে শিখুন। কি করলে কি হতো, এটা করলে আরো ভালো হতো এসব জ্ঞানগর্ভ আলোচনা না করে তাদের উৎসাহ জোগান। খারাপটুকু না হয় বাদ দিন না। অনেক তো খারাপ ধরিয়ে দিলেন জীবনে তাতে আসলেই কি পরিবর্তন এসেছে! আজ থেকে ভালোগুলোকে তুলে ধরুন। দেখবেন অসংগতি থেমে যাবে। খারাপ কে খারাপ বললে সে পরিবর্তন হয়েছে এমন উদাহরণ নাই, ভালো কে ভালো বলে দেখুন হয়তো সমাজটা বদলে যাবে। সন্তানকে মানবিক হওয়ার শিক্ষা দিন, বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করলেই মানবিক হওয়া যায় না। বাস্তব শিক্ষাই বড় শিক্ষা।



আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)