শিরোনাম:
ঢাকা, সোমবার, ১৭ মে ২০২১, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
Songjog24
রবিবার ● ২৪ মে ২০২০
প্রচ্ছদ » অন্যান্য » বামনা থানার এএসআই-কনেস্টবল প্রত্যাহার : মানহানি এবং গোপনীয়তার অধিকার লংঘন
প্রচ্ছদ » অন্যান্য » বামনা থানার এএসআই-কনেস্টবল প্রত্যাহার : মানহানি এবং গোপনীয়তার অধিকার লংঘন
৩০৭ বার পঠিত
রবিবার ● ২৪ মে ২০২০
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

বামনা থানার এএসআই-কনেস্টবল প্রত্যাহার : মানহানি এবং গোপনীয়তার অধিকার লংঘন

সংযোগ টোয়েন্টিফোর, মুক্তমত ডেস্ক :

---বরগুনার বামনা থানার দুই পুলিশ সদস্যের ‘তাস খেলার’ ছবি কে বা কারা গোপনে তুলে তাদের গোপনীয়তার অধিকার লংঘন করেছেন এবং তাদের ‘মানহানি’ করার উদ্দেশ্যে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করে ফৌজদারি অপরাধ করেছেন।… এই ছবির প্রেক্ষিতে “শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা” হিসাবে বরগুনা জেলা পুলিশ তাদের প্রত্যাহার করেছেন।

সাধারণত পুলিশের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললেই আমাদের এক শ্রেণির নাগরিক সেটাকে লুফে নেন এবং “খুশী” হন।…. তারা ভুলে যান, অন্যায়ভাবে কারো সাথে কিছু করা হলে সেটা সার্বিকভাবে সমাজের সকলের উপর অন্যায় করা হয়।… মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র বলেছেন, Injustice anywhere is a threat to Justice everywhere….

তাছাড়া যে পুলিশের প্রতি অন্যায় হল, তারও একটা পরিবার আছে, তারও একটা সমাজ আছে।… তিনিও রাস্ট্রের একজন নাগরিক। সম্মানের সাথে, মর্যাদার সাথে জীবনযাপন করা তার সাংবিধানিক অধিকার।

অবসর সময়ে ‘তাস খেলা’ আমাদের দেশের একটা সুপ্রাচীন ঐতিহ্য।… এমনকি শখের বসে ২/১ বার যদি কেউ টাকা দিয়েও খেলে থাকেন, সেটি যদিও একটি নৈতিক অপরাধ কিন্তু সেটির বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট আইন এখনো আমাদের দেশে নেই।… কিন্তু সেটার ছবি গোপনে ধারণ করা সুস্পষ্টভাবে নাগরিকদের “গোপনীয়তার অধিকারের লংঘন এবং মারাত্মক অপরাধ”।… এর মাধ্যমে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা অথবা তাদের মানহানি করা আমাদের দণ্ডবিধি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী আরো একটি অপরাধ।…

অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান বলে মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি।.. সঠিক তদন্ত এবং অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তাদের বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন, এটা নিয়ে আমাদের বলার কিছু নেই।… কিন্তু যারা ব্যক্তিগত মুহুর্তের ছবি তুলে ‘ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার লংঘন করেছেন’ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যের সামাজিকভাবে মানহানি এবং পেশাগত ক্ষতি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।

ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি, ঘটনার শিকার পুলিশ সদস্যগন যদি চান তবে তারা দেওয়ানী আদালতে মানহানীর জন্য যথাপোযুক্ত ক্ষতিপূরণও চাইতে পারেন।

লিখেছেন : হাসান তারিক পলাশ (অ্যাডভোকেট, সুপ্রিম কোর্ট)



পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)